মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ‘শাহেদ ১৩৬’-এর পাশাপাশি আরশ-২-এর নাম ঘোষণা করেছে। এই আত্মঘাতী ড্রোনটি তার অনন্য ক্ষমতার কারণে দ্রুত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরশ-২ দীর্ঘ পাল্লার, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত দিতে সক্ষম এবং রাডার সিস্টেমকে এড়িয়ে চলতে পারে। সামরিক কমান্ডাররা উল্লেখ করেছেন, ড্রোনটি মূলত শত্রু হুমকি মোকাবিলা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু আঘাতের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমারস হায়দারি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করেন যে, আরশ-২ ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফার মতো উপকূলীয় শহরগুলিকে লক্ষ্য করতে সক্ষম।

ড্রোনটির ডেল্টা-আকৃতির ডানা উচ্চ গতি অর্জনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি দীর্ঘ দূরত্বের জন্য জ্বালানি সংরক্ষণে সাহায্য করে। আরশ-২-এর দৈর্ঘ্য ৪.৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৪ মিটার। এটি দৃশ্যত কিয়ান-২ ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরশ-২-এর দূরপাল্লা ক্ষমতা ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এটি ৫০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার পিস্টন ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এবং ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে।

ড্রোনটির বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। ইরানি কমান্ডারদের মতে, এটি নির্ভুল আঘাত এবং শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। আরশ-২ ইলেকট্রনিক যুদ্ধে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক কামিকাজে মিশনও সম্পাদন করতে সক্ষম। লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের আগে এটি একাধিকবার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা এর কার্যকারিতা ও প্রাণঘাতীতা বৃদ্ধি করে।

আরশ-২ ট্রাক-মাউন্টেড বক্স লঞ্চ সিস্টেম বা JATO লঞ্চারের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়, যা বিভিন্ন ভূখণ্ডে দ্রুত এবং নমনীয় স্থাপনার সুযোগ দেয়।

ইরানি সামরিক সূত্রের মতে, গত ১৪ জুন সকালে কয়েকটি আরশ-শ্রেণির ড্রোন ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আরশ-২ বাস্তবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম।

আরশ-২-এর উত্থান ও পরিচালনা ইরানের ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি প্রদর্শন করে। ২০০০ কিলোমিটার পরিসরের ফলে এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌবহরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরশ-২ শুধু আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা হিসাব-নিকাশ পরিবর্তন করবে না, বরং ইরানের দেশীয় ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নকে তুলে ধরবে এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কৌশলগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

এনএইচ