বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, চলমান তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
রোববারও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদদের মতে, তীব্র গরমের এই প্রবাহ ধীরে ধীরে পূর্ব ইউরোপের দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টেড্রোস বলেন, ‘তাপজনিত চাপকে প্রায়ই নীরব ঘাতক বলা হয়। ইউরোপের ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের চরম তাপমাত্রা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত নয়।’
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে দেশটিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনাও প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
টেড্রোস আরও বলেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এখানকার তাপমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ইউরোপের লাখো মানুষ তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছেন। এর প্রভাবে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।
রোববার জার্মানিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের ব্রান্ডেনবুর্গ অঙ্গরাজ্যের কোশেন এলাকায় স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
চেক প্রজাতন্ত্রেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী প্রাগের উত্তরে ডোকসানি এলাকায় তাপমাত্রা ওঠে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববারই তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ তীব্রতা দেখা যেতে পারে। এরপর পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পোল্যান্ডেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির স্লুবিৎসে শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
টেড্রোসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, ‘একসময় যে তাপপ্রবাহকে প্রজন্মে একবারের ঘটনা বলা হতো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন প্রায় প্রতি বছরই দেখা যাচ্ছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বা তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও প্রধান। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত গরমের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এনএইচ