logo
Search

আন্তর্জাতিক

হুথিদের ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যে রিয়াদকে গোয়েন্দা সহায়তা আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুথিদের অবস্থান শনাক্ত করা থেকে শুরু করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন। তারা হুথিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন।

মার্কিন সামরিক সদস্যরা সম্প্রতি গঠিত একটি যৌথ কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সৌদি আরবকে একটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রযুক্তিটিকে পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভৌগোলিক তথ্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুথিদের অবস্থান চিহ্নিত এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণেও সহায়তা করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সৌদি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ কিংবা সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সীমিত রাখা হয়েছে।

হুথিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার হুথিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এর ফলে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগেও সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ

হুথিদের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরানের ভূমিকা নিয়েও উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েক শ সদস্য ইয়েমেনে অবস্থান করছে এবং হুথিদের সঙ্গে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরানের সহায়তায় হুথিরা একপর্যায়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করতে পারে। এমনটি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইয়েমেনে আইআরজিসির উপস্থিতির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথিদের হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে ওয়াশিংটন।

অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। ওবামা ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

তবে সে সময় বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালায়। পরে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই অভিযান বন্ধ হয়।

এদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক সামরিক দায়িত্বের কারণে মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে অভিযান, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পাশাপাশি এখন সৌদি-হুথি সংঘাতে বাড়তি ভূমিকার বিষয়টিও ওয়াশিংটনকে ভাবাচ্ছে।

বিশেষ করে সৌদি অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে মার্কিন সামরিক মহলে।

এস