আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা নিয়ে সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে মতামত চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় এ মতামত দেয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকারের দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। ফলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও ডেপুটি স্পিকারই যথাযথ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতেই হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জনে রয়েছে।
ভোট শেষে আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
দীর্ঘ বিরতির পর এবারই আবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।