এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার গবেষণার অগ্রদূত ও এক নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অনন্য।

তিনি ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে গঠনমূলক ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা দেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তোফায়েল আহমেদ স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ে লব্ধপ্রতিষ্ঠ গবেষক ও লেখক ছিলেন। স্থানীয় সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা প্রায় ২০টি গ্রন্থ এবং অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ আমাদের জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে ও ভবিষ্যতেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর বাংলাদেশ কার্যালয়ে স্থানীয় শাসন উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। হৃদরোগ ও ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। বুধবার বিকেলে হার্টে রিং পরানোর সময় অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং রাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : বাসস