ইসির বাজেট শাখার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সংগ্রহকে এবারের ক্রয় পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়েছে।
ক্রয় পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি, নির্বাচনী সামগ্রী, যানবাহন, নিরাপত্তা এবং প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম।
১০ কোটি টাকায় ৬৬টি গাড়ি
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০টি জিপ, দুটি প্রাইভেট কার, চারটি মাইক্রোবাস ও ৫০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৬টি যানবাহন কিনতে ১০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান গাড়ির চাকা, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার জন্য রাখা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।
নির্বাচনী সামগ্রীতে বড় বরাদ্দ
নির্বাচনী সামগ্রী কেনার মধ্যে ১০ হাজার ১০০টি সিল করার মোমের জন্য ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যালট বক্সের ২১ লাখ ৫০ হাজার তালার জন্য ৮৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া ৪ লাখ ১০ হাজার কালির প্যাড কিনতে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং একই সংখ্যক অমোচনীয় কালির কলম কিনতে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
৩ লাখ ৬০ হাজার অফিসিয়াল সিলের জন্য ৬০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিং সিলের জন্য ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য ৯ লাখ ২৯ হাজার ৫০০টি ম্যানুয়াল ছাপাতে ৮ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য ৭ লাখ ১৫ হাজার গাইডলাইন বই তৈরিতে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ১ লাখ ৭০ হাজার মুদ্রণকাজে বিজি প্রেসের জন্য ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ২৩ কোটি ৮০ লাখ
ইসির তথ্যপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে মোট প্রায় ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইসির ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভার ও স্টোরেজ উন্নয়ন, সিসিটিভি, অনলাইন মনোনয়ন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, জিআইএস সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।
জিআইএস সফটওয়্যারের লাইসেন্স কিনতে ৩ কোটি টাকা এবং জিআইএসের জন্য সার্ভার, জিপিইউ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ হার্ডওয়্যারে ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।
প্রচার ও নিরাপত্তায়ও বড় ব্যয়
জনসংযোগ শাখার বিভিন্ন প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে নিরাপত্তাসেবা কিনতে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আউটসোর্সিং জনবলের জন্যও ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এনআইডি খাতে ৩ কোটি ৩২ লাখ
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কিনতে প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ডার্ক ওয়েব মনিটরিং টুলস ও সফটওয়্যারে ২ কোটি টাকা, নিরাপত্তা পরীক্ষা বা ভিএপিটিতে ৩০ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া এনআইডি মোবাইল অ্যাপ, ক্লাউড এআই, ইকেওয়াইসি সফটওয়্যার, অফিস স্টেশনারি, ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার জন্যও অর্থ রাখা হয়েছে।
ক্রয় পরিকল্পনাই পুরো নির্বাচনী ব্যয় নয়
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৩২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার এই বরাদ্দ মূলত কমিশনের নিজস্ব কেনাকাটা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের জন্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় এর বাইরে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যয় হবে।
ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটারসংক্রান্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মোট ৯৮ হাজার ১৯৬টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কথা জানিয়েছে ইসি।
এস





