ঢাকা কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কী ধরনের সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য একটি বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে ফ্রান্সের কাছে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার হয়ে উঠছে।

এ কারণে বর্তমান সময়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। উভয় দেশই ঐতিহ্যবাহী উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেকে স্বাগত জানানো হয়। তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লের। কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘ এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মানবাধিকার পরিষদে ফ্রান্সের হয়ে কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া মস্কোতে ফরাসি দূতাবাসে কাউন্সিলর, ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফরাসি প্রতিনিধিদলের পার্লামেন্টারি কাউন্সিলর, রোমে ফরাসি দূতাবাসে কালচারাল কাউন্সিলর এবং প্যারিসে সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রীর কূটনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ফরাসি দূতাবাসে ডেপুটি হেড অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, বৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার প্রতি রাষ্ট্রদূতের গভীর আগ্রহ রয়েছে। ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

দুই দেশের পারস্পরিক নীতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

ডিক্যাবের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, তাঁর উপস্থিতি এবং সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ডিক্যাবের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এমএম