বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। দেশের পোল্ট্রি খাতের প্রধান সংগঠন বিপিআইসিসি এবং ওয়াপসা-বাংলাদেশ যৌথভাবে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, একজন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য বছরে অন্তত ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের সহজলভ্যতা ১৩৭টি। অধিদফতরের লক্ষ্য, ২০৩১ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিম ভোগ ১৬৫টি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ২০৮টি করার।

ডিম দিবসের প্রথম আয়োজন হয়েছিল ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আইইসি কনফারেন্সে। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে এবং ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দেশে উৎপাদন এবং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ডিম থাকলেও বাজারে দাম এখনও বেশিরভাগ ভোক্তার কাছে বেশি মনে হচ্ছে। বিশেষ করে শাক-সবজি, মাছ-মাংসের দামের বৃদ্ধি ডিমের চাহিদা বাড়াচ্ছে। এক ডিম বিক্রেতা বলেন, “এক কেজি সবজি কিনতে ৫০–১০০ টাকা খরচ হয়, কিন্তু এক হালি ডিম ৪০–৫০ টাকায় পাওয়া যায়। ফলে দুইজনের পরিবারও একদিন সহজে চলে যেতে পারে।”

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি ডিম বাজারে আসছে। একজন মানুষের জন্য বছরে ন্যূনতম ১০৪টি ডিম প্রয়োজন, আমরা বর্তমানে ১৩৭–১৩৮টি ডিম বাজারে সরবরাহ করতে পারছি। উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, দাম মাঝেমধ্যেই বৃদ্ধি পায়। কৃষি অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সবজির তুলনায় ডিমের বাজারে সিন্ডিকেট বেশি, যা একটি বিশেষ শ্রেণি নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার যদি পদক্ষেপ নিত, তবে বাজারে সংকট হতো না।”

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, উৎপাদন খরচ মিটিয়ে উৎপাদককে টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে। বর্তমানে সপ্তাহে জনপ্রতি দুইটি ডিমের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩৫–১৪০ টাকা এবং প্রতি ডজন সাদা ডিম ১২৫–১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবার, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্বব্যাপী ডিমের মানোন্নয়ন ও জনপ্রিয়করণের জন্য কাজ করে আসছে। তাদের উদ্যোগেই ১৯৯৬ সাল থেকে অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস।

এনএইচ