আকস্মিক এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল নানা জল্পনা-কল্পনায় মুখর হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর এবং এ সংক্রান্ত ঢাকার অবস্থান সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে উপস্থাপন করতেই হাইকমিশনারের এই জরুরি আহ্বান। এর বাইরে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে উত্থাপিত নানা রাজনৈতিক ও আইনি শর্তের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লে সেই প্রাথমিক আলোচনা সাময়িকভাবে থমকে যায়।

পরবর্তীতে ঢাকার তরফ থেকে সফরের পূর্বে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয় এবং জানানো হয়, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন।সম্প্রতি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নভেম্বরের শেষভাগে তারেক রহমানের ভারত সফরের গুঞ্জন প্রকাশ পেলেও ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ চূড়ান্ত করেনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির সংবাদ মাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার চাপে নয়, বরং সুবিধাজনক ও অনুকূল পরিবেশে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই ভারত সফর করবেন।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটিমাত্র ফোনালাপ বা বার্তা দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সাম্প্রতিক জটিলতার সমাধান সম্ভব নয়।

তবে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই ঝটিকা দিল্লি সফর মূলত থমকে থাকা আলোচনাকে গতিশীল করারই এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রয়াস।

এমএম