অর্থনীতির টানা টানাপোড়েন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘূর্ণিপাকে পড়ে দেশের সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন এখন চরম সংকটে। তার ওপর অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বারবার জ্বালানির দাম বাড়ায় রান্নাঘরের হাঁড়িতেই এখন টান পড়তে শুরু করেছে।
রান্নাঘরে অভাবের আঁচ, পকেটে শুন্যতা
রাজধানীসহ দেশের জেলা শহরের নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দিন কাটছে এক চরম অনিশ্চয়তায়। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের পর এখন নতুন করে রান্নার গ্যাসের এই আকাশছোঁয়া দাম অনেক পরিবারের জীবিকার সমীকরণই বদলে দিচ্ছে।
একজন দিনমজুর বা স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীর পক্ষে আয়ের বড় একটা অংশ কেবল রান্নার গ্যাসে ব্যয় করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। খুচরা বাজারের অসাধু সিন্ডিকেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়ছে পরিবহণ, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবা খাতেও। ফলে পরোক্ষভাবে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম আরও একধাপ উঁচুতে গিয়ে ঠেকছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক ছায়া ও প্রশাসনিক স্থবিরতা
অর্থনৈতিক এই টানাটানির মধ্যেই দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ: সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়ায় আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
শিক্ষা খাতে রাজনীতিকরণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধা ও পড়াশোনার চেয়ে দলীয় প্রভাব প্রাধান্য পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা। গবেষণার মান কমে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে দক্ষ জনবলের অভাব।
কোন পথে দেশের ভবিষ্যৎ?
সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এভাবে আর কত দিন? রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের সাথে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
১. সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার নিয়ন্ত্রণ: অবিলম্বে অসাধু ব্যবসায়ী ও এলপিজি চক্রের লাগাম টানতে হবে। সরকারি রেটের বাইরে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে কঠোর তদারকি দরকার।
২. প্রতিষ্ঠান মুক্তকরণ: বিচার বিভাগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদারভাবে পরিচালিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: টিসিবির মাধ্যমে নিম্নবিত্তের জন্য ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের পরিধি বাড়াতে হবে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের পেটে দু'মুঠো অন্ন যোগানোর নিশ্চয়তা না দিলে এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দিনশেষে একটি দেশের প্রকৃত শক্তি হলো তার শান্তিকামী জনগণ; আর তাদের মৌলিক চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এমএম











