সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পরপরই সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালটির অবকাঠামো পুনর্গঠনে কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ছয়জন মানুষ মারা যাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আইসিইউ ইউনিটের দরজা-জানালাসহ অবকাঠামো পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। তারা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। আমরা দ্রুতই একটি পরিদর্শন টিম পাঠাব। পরিদর্শন শেষে যদি সব কিছু ফিজিবল (যৌক্তিক) মনে হয়, তবে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
নিহত ছয়জনের পরিবারের চরম শোচনীয় অবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ছয়টি পরিবার এখন নিঃস্ব। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে কিছু আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। যদিও প্রতিশ্রুত আরও কিছু টাকা পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, তবে আমরা তাদের যথাযথ সহায়তার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।
মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়াটি আইন অনুযায়ী চলবে। আমাদের পক্ষে তো আর মার্ডার মামলা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের অনুমতি না দেওয়ায় বিষয়টিতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারগুলো যেন ন্যায়বিচার পায় এবং কোনো পক্ষই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা হটলাইন ‘১৬২৬৩’ নম্বরের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এই নম্বরে কল করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সরকার আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রতিটি এলাকায় আমাদের স্পেশাল বরাদ্দ ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত থাকে।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছি। আমাদের কাজে কোনো দুর্বলতা থাকলে আপনারা তা তুলে ধরবেন, আমি তাতে খুশিই হবো।
এস