আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার একটি ঘটনা ধরা পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত বরগুনার বামনা উপজেলার একটি সিআর মামলায় দাখিল করা একটি নোটারি হলফনামাকে ঘিরে। ওই হলফনামায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের কাউন্টার সই ও সরকারি সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। নথিটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম (সিএমএম) আদালতের নেজারত শাখায় সংরক্ষিত হলফনামা রেজিস্টার যাচাই করা হয়।

যাচাইয়ে দেখা যায়, হলফনামায় ব্যবহৃত স্মারক নম্বরটি অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত। পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ওই নথি তৈরি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আদালত প্রাঙ্গণের কিছু ফটোকপির দোকান, দালাল, অসাধু আইনজীবী এবং কিছু অসৎ কর্মচারীর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে আদালতের আদলে ভুয়া নথি তৈরি করে আসছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা, সমন, নোটারি হলফনামা, কাবিননামা, এমনকি মামলার সার্টিফায়েড কপিতেও বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার মতো ঘটনা বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এনএইচ