বুধবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ভারতের কিছু বক্তব্য এসেছে- সেখানে আমাদের কিছু নসিয়ত করা হয়েছে। যে নসিয়ত করা হয়েছে, সেটা আমাদের দরকার আছে বলে মনে করি না। আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে সেটা নিয়ে আমাদের প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্টভাবে বলে আসছে, অত্যন্ত উচ্চ মানের মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ছিল না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখন ভারত জানে গত ১৫ বছর ধরে যে সরকার ছিল, যাদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল। তখন কিন্তু নির্বাচগুলো প্রহসণমূলক হয়েছে তখন তারা একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। এখন সামনে একটা ভালো নির্বাচনের দিকে আমরা যাচ্ছি।

গত রোববার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেদিন ভারতীয় দূতকে তলবের প্রতিক্রিয়ায় দিল্লির ইস্যু করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গ ছিল। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ভারতের অবস্থান।

ভারতীয় দূতকে তলবের তিন দিনের মাথায় বুধবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। দুপুরে ঢাকার দূতকে তলবের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানেও নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলা হয়।

দুদেশের দূতদের তলব-পাল্টা তলব নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। আমরা যা কিছু বলেছি, তা থেকে কিছু তারা গ্রহণ করেনি। সে বিষয়ে তাদের কিছু দ্বিমত আছে। একইভাবে আমাদের হাইকমিশনারকেও ডেকেছে। এটা খুব অপ্রত্যাশিত না। সাধারণত, এটা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা জানি আগে শেখ হাসিনা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিতেন। এখন প্রতিনিয়ত মূল ধারার গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য আসছে যা দেশের জন্য ব্যাপক অস্তিরতা ও উসকানিমুলক। যিনি আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত হিসেবে সাভ্যস্ত হয়েছে। আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত আসামী পাশের দেশে বসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা বক্তব্য বন্ধ বা তাকে ফেরত চাইব, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত যদি তাকে (শেখ হাসিনা) থামাতে না চায় তাহলে এটা বুঝে নিতে হবে আমাদেরকে। আমরা চাইবো যে, ভারত তাকে থামাক, যাতে এখানে একটা পরিবেশ সৃষ্টি যেটা হচ্ছে নির্বাচনের জন্য, সেখানে যেন তার ইনসেন্ডিয়ারি বক্তব্য যেগুলো উনি দিচ্ছেন, সেটা যাতে খারাপ করার মতো কোনও পরিবেশ সৃষ্টি না হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি, আমরা কী করবো। আমরা একটা ভালো নির্বাচন করবো, যেটাতে মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যারা যাদেরকে ভোট দেবে তারাই নির্বাচিত হবে। যেটা এর আগে গত ১৫ বছরে ঘটেনি। তো এই জিনিসটা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আর বাকিটুকু তো কিছু থাকে যে, আমরা একটা কিছু বলি তারা আমাদের সঙ্গে একমত নাও হতে পারে। সেটা আমি কিছু মনে করি না।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,‘ শেখ হাসিনার ইস্যু নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। এটার ব্যাপারে তাদেরকে আমরা যা কিছু বলেছি, সেটা তারা গ্রহণ করেনি বা তাদের কিছু দ্বিমত আছে। এ বিষয়ে একইভাবে আমাদের হাইকমিশনারকেও তারা ডেকেছে। এটা খুব অপ্রত্যাশিত না, সাধারণত এটা ঘটে একজনকে ডাকলে আরেকজনকে ডাকা হয়। এখানে বিষয়টা হচ্ছে অন্য একটা ফেইজে প্রবেশ করলাম কিনা, এটা বলা খুব কঠিন। কারণ আমাদের তো বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই ভালো যে, আসলেতো এই সরকারের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত টানাপড়েন আছে। ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন ছিল, এটা মেনে নিয়েই আমরা সবসময় বলে আসছি আমরা একটা গুড ওয়ার্কিং রিলেশন চাই। তো আমরা চাইলে সেটা যে হবেই, এমন তো কোনও কথা নেই। তো এখন সম্পর্ক দুই পক্ষ থেকেই তো সেটাকে আগানোর চেষ্টা করতে হবে।’

এমএম