গত ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘এম ই এস বিল্ডিং নম্বর-৫৪’কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১৪ অক্টোবর।
কারা বিধি অনুযায়ী বন্দিদের দেখভালের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। নিরাপত্তার জন্য সেখানে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাব-জেলটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবন, যেখানে মোট ১৬টি কক্ষ রয়েছে— প্রতিটি কক্ষে একজন বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ও জেলার সাব-জেলের সার্বিক তদারকি করবেন। তাদের সহায়তায় তিনজন ডেপুটি জেলার তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এসব কর্মকর্তা স্থায়ী নন; নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের বদলি করা হবে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের খাবার সরবরাহ করা হবে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী। সকালের নাশতায় থাকবে রুটি ও সবজি, দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি এবং মাছ বা মাংস, আর রাতে দেওয়া হবে মাছ বা মাংসের সঙ্গে সবজি।
প্রত্যেক বন্দির কক্ষে একটি বিছানা, চেয়ার, টেবিল, ফ্যান ও পত্রিকা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া চা পানের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
এআইজি (প্রিজন্স) জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, “আমরা ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছি। তারা বর্তমানে সাব-জেলে আমাদের অধীন আছেন। আদালতে হাজিরার সময় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে, পরে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, “বাশার রোডের সাব-জেলেই তারা থাকবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার এই সাব-জেল তদারকি করবেন। কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের মতোই তারা সুযোগ-সুবিধা পাবেন।”
আসামিরা হলেন— মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম।
এনএইচ