উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই ‘ক্যাচ-আপ’ প্রোগ্রামের আওতায় বাদ পড়া ২৪ লাখসহ মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ শিশু নতুন করে ছয় মাস বয়সে পৌঁছেছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ছুটির দিন এবং সন্ধ্যার পরও টিকাদান কেন্দ্র খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি

চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন। এছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে এপ্রিলে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি (১০৯.৪ শতাংশ) শিশুকে টিকার আওতায় আনা হলেও প্রকোপ কমেনি। কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা ও নজরদারি

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ জানান, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে ইউনিসেফের অগ্রিম তহবিলের মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেশে এসেছে। যার মধ্যে ৪০ লাখ ডোজ এই ক্যাম্পেইনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়াল জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সি এবং টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকাদানের কাভারেজে অসমতা দূর করতে এই ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর মাঠপর্যায়ে বিশেষ নজরদারি চালাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। আটটি বিভাগের নির্বাচিত জেলা ও উপজেলাগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশিদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ৩৪ লাখ শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা গেলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশকে হাম ও রুবেলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এনএইচ