আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে HRSS আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, গবেষক, সাংবাদিক, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—“জোরপূর্বক গুমের বিচার, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা এবং আইনি সংস্কার।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও HRSS-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন HRSS-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান লিটন, গুমের ভুক্তভোগী ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, ব্যারিস্টার শায়খ মাহদী, OHCHR বাংলাদেশ কার্যালয়ের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাবরিনা আহমেদসহ বিশিষ্ট আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক ও গবেষকরা।
অতিথিদের বক্তব্য: আলোচনায় অতিথিরা বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর হতে হবে। বিশেষ করে কোনো আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একই বাহিনী বা তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্বার্থের সংঘাত ও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। গুমের অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, হেফাজত রেজিস্টার, ভিডিও ফুটেজ, কল ও ডিউটি রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ ও সরবরাহের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রস্তাবিত আইনগুলির সমালোচনা করে বলেন যে, তদন্তের প্রক্রিয়া যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করা না হয় তবে তা হবে এক ধরণের বড় ধোঁকা। তবে তিনি এই আইনগুলোকে পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার বিপক্ষে মত দিয়ে বলেন যে, ভুক্তভোগীদের দলিলের মতো কিছু দীর্ঘদিনের দাবি এই আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা প্রয়োজনীয়। তিনি বর্তমান সরকারের তৈরি করা আইনের দুর্বলতা নির্দেশ করে বলেন যে, এটি আমাদের সংবিধানকে অবজ্ঞা করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির চেয়েও আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে, কারণ অন্য কোনো দেশে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ এভাবে বন্ধ করা হয়নি। সরকারের প্রতি তার সুপারিশ হলো, আগামী কয়েক দিনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যেন ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আইন দুটিতে স্বাধীন তদন্তের ধারা যুক্ত করে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে সবার জন্য, এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জন্যও, ন্যায়সঙ্গত ও মানবাধিকার রক্ষা করে পরিচালনা করার ব্যবস্থা করে।
মানবাধিকার কর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও ভুক্তভোগীদের কথা শুনলে মনে হয় না দেশে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন এসেছে। খসড়া আইনের ত্রুটি নির্দেশ করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীকেই জেলে পাঠানোর বিধান অত্যন্ত অন্যায্য এবং এতে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ নিপীড়ন আড়াল হবে। তিনি সরকারকে মনে করিয়ে দেন যে, জনপ্রতিনিধিদের কাজ নিরাপত্তা বাহিনীকে খুশি করা বা তাদের ইচ্ছেমতো চলা নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারের প্রতি তার কঠোর সুপারিশ হলো, তারা যেন ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে কাজ করে এবং আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে কোনোভাবেই বেইমানি না করে।
মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান বলেন, যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত গুমের তদন্ত করতে না পারে, তবে এত অর্থ খরচ করে এমন নিষ্ক্রিয় কমিশন রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বিভিন্ন গুমের ঘটনার জটিলতা এবং কীভাবে এক বাহিনী অন্য বাহিনীর কাছে বন্দি হস্তান্তর বা তথ্য আদান-প্রদান করে তা বিশ্লেষণ করেন। বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা কমিশনের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে তিনি সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া মিরাজ শেখের প্রসঙ্গ টানেন। সরকারের প্রতি তার সুপারিশ হলো, তারা যেন এই বিষয়ে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে মিরাজ শেখকে ফিরিয়ে দেয় অথবা কী ঘটেছে তা প্রকাশ করে; অন্যথায় সরকারের গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হবে এবং ভবিষ্যতে গুমের জন্য বর্তমান সরকারকেও দায়ী করা হবে।
গুমের ভুক্তভোগী ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বর্তমান সংসদে একজন সদস্য হিসেবে চরম লজ্জা প্রকাশ করে বলেন যে, গুম ও হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য যে নতুন খসড়া আইন পেশ করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল। তিনি অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী একটি শক্তিশালী আইনের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রস্তাবিত এই আইনটি মূলত গুম কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনকে বিকল বা 'কাগুজে বাঘে' পরিণত করবে। বিশেষ করে, এই আইনে অভিযোগকারী ভুক্তভোগীর অভিযোগ কোনোভাবে ভুল বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাকেই উল্টো সাজা দেওয়ার যে বিপজ্জনক বিধান রাখা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যা খুশি তাই করার একটি প্রচ্ছন্ন সিগন্যাল দিচ্ছে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন যে কিসের ভয়ে এই আবর্জনা তুল্য আইন সংসদে আনা হচ্ছে এবং সরকারের প্রতি তার সুপারিশ হলো, সংসদ যেন কোনোভাবেই এই আইনটি পাস না করে এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি যেন এটি সংশোধন করে।
গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস সংসদে উত্থাপন হতে যাওয়া গুম সংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের ফাঁকফোকরগুলো তুলে ধরেন এবং জানান যে এই আইন দুটির মাধ্যমে মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। তিনি বর্তমান সরকারের এই আশ্বাসের সমালোচনা করেন যে তারা গুম করবে না, এবং পালটা প্রশ্ন করেন যে গুম না করলে গুমের পথ বা দরজা কেন খোলা রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আইনে অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজেদের ঘটনার তদন্ত করতে দেওয়া বা মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া মূলত সংবিধানের সমঅধিকারের পরিপন্থী। তিনি এই আইনগুলির অবিলম্বে সংশোধনের সুপারিশ করেন যাতে স্বাধীন তদন্তের পথ উন্মুক্ত থাকে এবং বিশেষ করে প্রান্তিক ভুক্তভোগী মানুষ যেন আইনি সুরক্ষা পায়।
ব্যারিস্টার শায়খ মাহদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন গুমের মামলাগুলির অগ্রগতির বিবরণ দিয়ে জানান যে, বাহিনীগুলির মধ্যে পারস্পরিক বন্দি হস্তান্তর ও যৌথ তৎপরতার কারণে গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত অত্যন্ত জটিল। এই জটিলতা নিরসনে তিনি সরকারের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, প্রস্তাবিত আইনে পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠন করা যেতে পারে, তবে তাদের মূল বাহিনীর কমান্ড স্ট্রাকচার থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং তাদের ওপর প্রসিকিউশন দল বা মানবাধিকার কমিশনের মতো কোনো স্বাধীন সংস্থার তদারকি বা তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতি তার সুপারিশ হলো, একটি মজবুত আইনি কাঠামো এবং অপরাধীদের বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন না করলে যেকোনো সরকারের আমলেই গুমের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, তাই নিরাপত্তা কাঠামোকে জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত করা জরুরি।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য: গোলটেবিলের ভুক্তভোগী অধিবেশনে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অসহনীয় অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। মিজানুর রহমান জমাদ্দারের স্ত্রী নাসিমা বেগম, জাকির হোসেনের ভাই মো. জিয়াউর রহমান, ইদ্রিস আলী পান্নার ছেলে মামুনুর রশিদ, মিরাজ শেখের বোন লিজা ইসলাম এবং মুহাম্মদ মুকদ্দাস হোসেনের চাচা আবদুল হাই আলোচনায় অংশ নেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁদের কাছে ন্যায়বিচার মানে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি নয়; নিখোঁজ স্বজনের অবস্থান ও ভাগ্য সম্পর্কে সত্য জানা, প্রয়োজন হলে মরদেহ উদ্ধার, তদন্তের ফলাফল জানা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের নিশ্চয়তা পাওয়া। তাঁরা সরকারের কাছে তাঁদের স্বজনদের সন্ধান, স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
মিরাজ শেখের বোন লিজা ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা থেকে মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার পর থেকে পরিবার তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে অবিলম্বে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঘটনার স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানানো হয়।
HRSS-এর ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ
- মিরাজ শেখসহ বিগত সময়ে নিখোঁজ সকল ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
- গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনী বা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
- গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে সময়সীমাবদ্ধ National Action Plan গ্রহণ করতে হবে এবং অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
- ২০০৯–২০২৪ সময়ে সংঘটিত গুমের অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
- কমান্ড রেসপনসিবিলিটি আইনে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে নির্দেশদাতা ও দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ চূড়ান্ত করার আগে ভুক্তভোগী পরিবার, নাগরিক সমাজ, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ করতে হবে।
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে Paris Principles-সম্মত প্রকৃত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা দিতে হবে।
- ভুক্তভোগী পরিবারের Right to Truth নিশ্চিত করতে হবে—নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান, আটক বা অপহরণের স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তদন্তের ফলাফল পরিবারকে জানাতে হবে।
- ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার মধ্যে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও শিক্ষা সহায়তা থাকবে।
- প্রতিটি আটকের তথ্য ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত, CCTV ও ডিজিটাল custody register বাধ্যতামূলক এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী, সাক্ষী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর Witness Protection ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
- আয়নাঘর ও অন্যান্য কথিত গোপন আটককেন্দ্রের স্থান ও প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসব স্থানকে স্মৃতি ও documentation centre হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
HRSS-মনে করে, গুমের বিচার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। অতীতের গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে এমন শক্তিশালী আইন ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আড়ালে কোনো নাগরিককে অদৃশ্য করে দেওয়ার সুযোগ না থাকে।
HRSS সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডসম্মত করা এবং প্রতিটি গুমের অভিযোগে দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
এমএম