সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে অর্থ মন্ত্রণালয় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর করা হয়েছে।

যাদের ক্ষেত্রে নতুন পে স্কেল প্রযোজ্য নয়

গেজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত ব্যক্তিরা জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সুবিধা পাবেন না।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এ আদেশের বাইরে থাকবেন। একইভাবে পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্মচারীদের জন্যও নতুন বেতনস্কেল প্রযোজ্য হবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক, শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও নতুন পে স্কেলের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি, দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা সাময়িক শ্রমিক এবং চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন কর্মীরাও নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না।

ধাপে ধাপে বাড়বে বেতন

নতুন বেতনস্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আলাদা হারে বেতন সমন্বয় করা হবে।

গেজেট অনুযায়ী, নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬-এ পাওয়া বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের এবং ৫০ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন পে স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

বকেয়া পাওয়ার সুযোগ

যদিও নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে, এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে ওই সময়ের জন্য নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে যে অর্থ দেওয়া হবে, তার সঙ্গে কর্মচারীরা আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ সমন্বয় করা হবে।

পেনশনেও ধাপে ধাপে বাড়তি সুবিধা

নতুন বেতনস্কেলের আওতায় পেনশনভোগীদের জন্যও ধাপে ধাপে বাড়তি সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী নিট পেনশন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে। আর ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে।

পরবর্তী ছয় মাসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার হবে যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ। সবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী পূর্ণ হারে নিট পেনশন কার্যকর হবে।

এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশনের বকেয়া অর্থ পাবেন।

এস