মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে এমন এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখা যায়।
'শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত' প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে রাজধানীর পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও শিশুরা যুক্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। একপর্যায়ে শিশুদের এক কঠিন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর শৈশবের সুন্দরবন ভ্রমণের বিশেষ স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর বাবার (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) ব্যস্ততার কারণে পরিবারসহ ঘোরার সুযোগ কম হলেও একবার তাঁদের নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। সেখানে হিরণ পয়েন্টের একটি পুকুরপাড়ে আগের রাতে পানি খেতে আসা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ তিনি নিজ চোখে দেখেছিলেন, যা আজও তাঁর মনে ভেসে ওঠে।
অন্য এক শিশু যখন জানতে চায়—ছোটবেলায় বড় হয়ে তিনি কী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন? জবাবে তারেক রহমান হেসে বলেন, "সত্যি কথা বলব? আসলে তখন কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। শুধু ভাবতাম, বড় হয়ে সব খেলনাগুলো কিনে নেব।"
শিশুদের কেবল পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রাম ও শহরের সব শিশুর প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো আবারও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে পড়ালেখা, সায়েন্স ফেয়ার বা খেলাধুলার অনুসন্ধানে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া প্রতি এলাকায় খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত পার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে সরকারি পরিকল্পনার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে শিশুদের পাশাপাশি ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটের শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান Foundation-এর ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয় এবং বিশেষ স্মারক 'শৈশব'-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীর গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং শিশু জাদুঘর ভবনের সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।
এমএম











