সোমবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এলাকায় একটি ইউনিয়নে তার মীর বংশের নামে ‘মীরবাড়ি’ নামে নামকরণ করেছেন। তার দুই সন্তান দিগন্ত ও সীমান্তের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী নাকচ করেছেন। আমরা বাহবা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যা চান, সেটাই তো মন্ত্রীদের চাওয়ার কথা। বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে নাম সংশোধনী করতে অনেক সময় কেটে গিয়েছিল। এখন একই সংস্কৃতি আমাদের মাঝে ফিরছে।’

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন। তিনি বলেন, মোকামতলার সৈয়দপুর ও দেউলি—এ দুটি ইউনিয়ন ছিল অনেক বড়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক যাচাই–বাছাই করে গণশুনানি করে নতুন নামকরণ করেছেন। সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটার নাম করা হয়েছে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে, এটি অনেক দূরবর্তী হওয়ায় এটার নাম রেখেছে ‘দিগন্ত’।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘সীমান্ত ও দিগন্ত’ নাম রয়েছে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, ‘মিরাকেলি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। আমাদের সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইনটেনশন থাকত, তাহলে জেলা প্রশাসককে বলতাম ‘নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত’। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এ সময় টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান প্রতিমন্ত্রীকে। মীর শাহে আলম তখন বলেছেন, ‘আল্লাহ বাঁচাইছে যে মাননীয় সংসদ সদস্য বলেনি যে বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড, ওটা আমার ব্যাংক। উনি দয়া করে যে বলেননি খুলনা থেকে পার্বতীপুরে যে ট্রেন যায় সীমান্ত এক্সপ্রেস, সেটিও আমার ট্রেন। বা উনি দয়া করে বলেননি যে গুলশান ১-এ যে দিগন্ত টাওয়ার রয়েছে, সেটিও আমার।’

উল্লেখ্য, বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন করে স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মোকামতলা পৌরসভা গঠনের পথে রয়েছে।

গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়।