সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিশনের কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর পর্যন্ত চলা বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইসি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন বা চলমান রয়েছে।
ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে ইসি।
চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী ও নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সব প্রার্থী যেন নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারে ও ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে। সন্দেহভাজন বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের নজরদারিতে রাখা হবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে ভোটের পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। এ সময় এক্সিকিউটিভ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় ইসি সচিবালয় অন্তত ১৩টি বিষয়ে আলোচনা প্রস্তাব করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—
ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সব বাহিনীর কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি, গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের শান্তি রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করা, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ইত্যাদি।
সভায় নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে জানায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এনএইচ