বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‍্যাবের সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

নাজিবুর রহমানের দাবি, ২০১৯ সালেও খালেদা জিয়া র‍্যাবকে ‘ক্যান্সার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বাহিনীটি বিলুপ্তির কথা বলেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছেও র‍্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদে বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই এমপি বলেন, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনের পক্ষ থেকেও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে র‍্যাবের পরিবর্তে প্রস্তাবিত নতুন বাহিনী এসআরবি নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে বলে জানান নাজিবুর রহমান। তার ভাষ্য, প্রস্তাবিত বিলের ২৭ ধারায় র‍্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবির কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নাম পরিবর্তন করে বাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’—র‍্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হচ্ছে না।

নাজিবুর রহমানের আশঙ্কা, এভাবে কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া নতুন বাহিনী গঠন করা হলে গুমসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এসআরবির জবাবদিহি ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাহিনীটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সাচিবিক দায়িত্বে এসআরবির একজন পরিচালক থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীর কর্মকর্তারাই তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তার প্রস্তাবিত তদন্ত কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের রাখার কথা বলেন তিনি।

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, এসব বিষয়ে লিখিতভাবে আপত্তি জানানো হয়েছিল এবং বিষয়গুলো সংসদীয় কমিটির রিপোর্টেও রয়েছে। কিন্তু বিলের মূল কাঠামোয় সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়নি।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনীর বিরোধী নন। প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শুধু নাম পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।

বক্তব্যের শেষ দিকে নাজিবুর রহমান বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

এস