শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি খসড়াটি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং অনলাইনে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার—তিনটি ভিন্ন বিষয়কে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিধানের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটির মতে, গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন, মানহানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর—এ ধরনের বিভিন্ন ধারণার সংজ্ঞা অস্পষ্ট হওয়ায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো ব্যাখ্যার সুযোগ থাকতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে বাক্-স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। প্রস্তাবিত ২৮ সদস্যের কাউন্সিলে বেসরকারি খাতের তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে রাখার কথা বলা হয়েছে। তারাও সরকারের মনোনীত হওয়ায় কাউন্সিলের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন সাপেক্ষে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে ওই কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কাউন্সিলের সদস্যদের সরল বিশ্বাসে করা কাজের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তির প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেছে টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, এ ধরনের দায়মুক্তি আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া যৌন হয়রানি ও সেক্সটর্শনের সংজ্ঞা যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ নয় বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি। এতে প্রকৃত অপরাধ আড়ালে যাওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবি বলেছে, সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের আলোকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে খসড়া আইনটি নতুন করে সাজানো প্রয়োজন।
এস
