বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বন্ধু রাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রচলিত কূটনীতির পাশাপাশি ট্র্যাক-১.৫ ও ট্র্যাক-২ কূটনীতির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং ক্যাম্পের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্ট আয়োজন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা এবং বৈধপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় ভারতের কাছে উদ্বেগ জানানো ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে বন্দী ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই তাদের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের ৬৩টি দেশে বাংলাদেশের ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব মিশনকে জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
রূপপুরে ইউনিট-১ চালুর আশা ডিসেম্বরে
রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এ বছর ডিসেম্বর মাসে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পাশাপাশি স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ চলছে।
এমএম
