বোরবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মে মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল। এখন এপ্রিল ও মে পর পর দুই মাস আবার বাড়ল। এক মাস আগে অর্থাৎ এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। তার আগে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যে চাপ আরও বেড়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম ও মুরগির বাজারদর বাড়ায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার বেশি চাপে পড়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি এই খাতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক হার ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এস
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ
চলতি বছরের মে মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। সর্বশেষ মার্চ মাসে ৯ শতাংশের নিচে ছিল সার্বিক মূল্যস্ফীতি।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা থেমে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে।
মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ: অর্থমন্ত্রী
মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপের পাশাপাশি কম কর আদায়, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এসব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে।
বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা এবং দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝার মধ্যে বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে বড় ধরনের বিক্রি চলছে। এর ফলে পরিবার ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্ডবাজারের এই পরিস্থিতি ইউরোজোন ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপরও চাপ তৈরি করছে।
মুদ্রানীতি ঘোষণা: মূল্যস্ফীতির চাপ, কমল না নীতি সুদহার
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এর স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
















