দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন আহত জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা গত দুই দিন ধরে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ আহত জুলাই যোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান করছেন।
আহত জুলাই যোদ্ধারা জানান, দাবিসমূহ বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে তারা অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন। একজন আহত ব্যক্তি বলেন, ‘গত রোববার রাত থেকে আমরা ন্যায্য অধিকার ও দাবির আদায়ের লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান গেটের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। দুঃখজনকভাবে, বারবার দাবি উপস্থাপন ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলমান থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আমরা আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর করতে যাচ্ছি। এই ধারাবাহিকতায় আজ (মঙ্গলবার) থেকে জুলাই যোদ্ধাগণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন, যা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে। আমরা পুনরায় স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমাদের দাবিসমূহ সম্পূর্ণ ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও মানবিক। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আমাদের আহ্বান—বিষয়টি মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার সঙ্গে বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

জুলাই যোদ্ধারা বলেন, আমাদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিগুলো হলো— ১. কোনো ধরনের প্রশ্ন, হয়রানি বা অযাচিত প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘এমআইএস’ ও গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। ২. ইতোমধ্যে গেজেটপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করে ক্যাটাগরি সংশোধনের মাধ্যমে সংশোধিত গেজেট সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে বিষয়টি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষার আলোকে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহত মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের রক্তের ওপর ভর করে অন্তর্বর্তী সরকার আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়। এর আগে অন্যদের কোনো ঝামেলা ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্তি করে গেজেট প্রকাশ করলেও বাকি ২০ হাজার আহতদের নিয়ে গড়িমসি করছে। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিজিএফআই, এনএসআই দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সিভিল সার্জন থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও তদারকি সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপরও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জুলাই অধিদপ্তর এসব ফাইল পিবিআই দিয়ে তদন্ত করার নামে হয়রানি করে আসছিল। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন থেকে প্রত্যেকের ফাইল কমপ্লিট করে ক্যাটাগরি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জুলাই অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হলেও এতদিন ফাইলগুলো ফেলে রাখা হয়। তাদের রহস্যজনক আচরণের কারণে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
জুলাই বিপ্লবে আহত ও শহীদদের তালিকার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করে আসছিল। বাধ্য হয়ে জুলাইয়ে আহত ও নিহতদের পরিবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সাড়া দিয়ে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জেলায় ডিসি অফিসে পড়ে থাকা ফাইলগুলো ঢাকায় আনা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধাও অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান ছাড়ব না।
জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রায়হান রাফি বলেন, শত শত আহত জুলাই যোদ্ধা আমাদের সাথে আন্দোলন করছেন। দুই দিন ধরে আমরা রাজপথে অবস্থান করছি। সারা দেশ থেকে আরও শত শত আহত জুলাই যোদ্ধা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।
ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সামনে আমরা দুটি রাত কাটিয়েছি। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
এনএইচ