সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত “২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে শাহাদতবরণকারীদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান”-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে আওয়ামী-বাকশালীরা দেশে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। সেদিন ছিল চার-দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ পূর্তির দিন। সংবিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তুচ্ছ অজুহাতে আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক সে সরকারকে মেনে নিতে রাজি হয়নি; বরং কথিত আন্দোলনের নামে সারাদেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, পরে বিএনপি মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। এটি সে সময়ের দেশের বৃহত্তম দুই দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল। এর ফলেই ২৮ অক্টোবরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এরপরও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। কিন্তু আওয়ামী নৈরাজ্য থেমে থাকেনি। একপর্যায়ে সরকারের উপদেষ্টারা পদত্যাগ করতে শুরু করেন। সে সুযোগে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনরা ১/১১ অভ্যুত্থান ঘটাতে সক্ষম হয়।
মাওলানা মা’ছুম বলেন, ১/১১-এর কথিত জরুরি সরকারের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না; বরং সে সরকার ছিল এক অদ্ভুত প্রকৃতির বেআইনি সরকার। ওই সরকারের কাজই ছিল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা।
তিনি ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে স্মরণ করে আরও বলেন, মূলত পল্টন হত্যাযজ্ঞ নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড ছিল না, বরং তা ছিল দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। সেদিন খুনিরা শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং লাশের ওপর নৃত্য করে দানবীয় উল্লাসে মেতে উঠেছিল। আইয়্যামে জাহেলিয়াতেও এ ধরনের নির্মমতা দেখা যায়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব খুনিকে এখনো আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ২৮ অক্টোবরের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের শাহাদাত কবুল হওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসাইন, মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মু. আতাউর রহমান সরকার এবং ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি প্রমুখ।
ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ২৮ অক্টোবরের খুনিরা প্রকাশ্য রাজপথে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং লাশের ওপর দানবীয় উল্লাস চালিয়েছে। শহীদরা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বাতিলের কাছে মাথা নত করেননি। তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ২০২৪ সালে আবু সাঈদ ও মুদ্দির মাধ্যমে তা পূর্ণতা পেয়েছে। তাই ২৮ অক্টোবরের চেতনায় পরিপূর্ণ বিজয় অর্জনের জন্য আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ের বিকল্প নেই।
তিনি দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মূসা বলেন, পল্টনের শহীদরা আমাদের জীবন দিতে শিখিয়েছেন। তাই আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই; বরং শহীদি তামান্না নিয়েই আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। তিনি দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে সকলকে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এনএইচ