শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার একমাত্র পথ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করা। তাঁর আদর্শ ও সুন্নাহ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেই জীবন পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহানবী (সা.)-কে কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বমানবতার জন্য রহমত ও অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর ও যুবকদের জন্যও রাসূল (সা.) অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর চরিত্র ছিল সর্বোত্তম গুণে সমৃদ্ধ।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) পথ থেকে সরে যাওয়ার কারণেই মুসলিম বিশ্ব নানা সংকট ও পরিণতি ভোগ করছে। সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা রাসূল (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে এবং তাদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক মেধাবী মানুষ থাকলেও তাদের একটি অংশ নিজেদের মেধাকে মানবতার কল্যাণে ব্যবহার না করে স্বার্থসিদ্ধিতে কাজে লাগাচ্ছেন। বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন পথে ব্যক্তিস্বার্থ খোঁজার ফলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নবুয়ত লাভের আগেই মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ ও ‘আস-সাদিক’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। কিন্তু ওহি নাজিল হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই বিরোধিতায় নেমে পড়েন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
তিনি বলেন, পৃথিবীর মানুষ যতদিন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নাহ আঁকড়ে ধরেছে, ততদিন তারা সম্মান ও নেতৃত্বের মর্যাদা পেয়েছে। আর যখন তারা সেই পথ থেকে সরে গেছে, তখন তারা বিপথগামী, পরাজিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে।
শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এস
