আজ বুধবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । বৈঠকে দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষ রাহবার মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা করা একটি ফ্যাসিবাদী আচরণ, যা নতুন বাংলাদেশে সহ্য করা হবে না ।

এছাড়া এক বিবৃতিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে এই মামলাটি করা হয়েছে । তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী সাবেক যুবলীগ কর্মী হলেও বর্তমানে ভোল পাল্টে যুবদলের পদধারী পরিচয় দিচ্ছেন, যদিও স্থানীয় বিএনপি তাকে স্বীকৃতি দেয় না । পতিত ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা ফয়জুল করীমকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নেতার নামে যে কেউ এসে এজহার দিলেই তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা সন্দেহজনক’।

বিবৃতিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এই ঘটনার পেছনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা আছে কিনা, তা তদন্তের দাবি জানানো হয় । একইসঙ্গে অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে ।

এদিকে জরুরি বৈঠক থেকে অন্য এক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের মহাসচিব জানান, রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় জেলা আন্দোলনের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মান্নানকে স্থানীয় যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ নির্মমভাবে কুপিয়েছে । এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি ।

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বুধবার (২৪ জুন) সাংবাদিকদের জানান, গত শনিবার জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। মামলায় মুফতি ফয়জুল করীম ছাড়াও সদর দক্ষিণ এলাকার কাদের মিয়াজীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিওতে তার দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করা হয়।

এমএম