বুধবার (২২ অক্টোবর) বাদ মাগরিব চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি ইউনিয়নে নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহর ও গ্রামের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। শহর ও গ্রাম সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পাবে। রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের মুক্তির জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তার সবটুকুই তিনি করবেন।

তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর ও গ্রামে কে কোথায় চাঁদাবাজি করে, বোমাবাজি করে— তা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ জানে। নয়লাভাঙ্গা ইউনিয়নে কোন নেতা চাঁদাবাজি ও বোমাবাজির নেতৃত্ব দেয়, সেটাও জনগণ জানে। চাঁদাবাজি-বোমাবাজি করে জনগণের ভোট পাওয়া যাবে না; বরং আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

নতুন বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, বোমাবাজ, লুটপাটকারী ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সুখী-সমৃদ্ধ একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি সারাদেশবাসীর মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জনগণকেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতা বলেন, শুধু জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করায় গত ১৭ বছরে একরাতও নিজ ঘরে ঘুমাতে পারিনি! শুধু আমি নই, জামায়াতে ইসলামীর লাখো নেতা-কর্মীকেও বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া হতে হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিচারিক হত্যার শিকার হতে হয়েছে। তাদের হত্যার আগে আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করতে ও আপস করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাব মানলে স্বসম্মানে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করেননি, আপসও করেননি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন দিয়েছেন, ফাঁসি বরণ করেছেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের অফিসগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের দাঁড়ি-টুপি দেখলেই ‘জামায়াত-শিবির’ উপাধি দিয়ে আটক করে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। খুন-গুম, কারা নির্যাতন— এত জুলুমের পরও জনগণ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি, যাবে না। জামায়াত ফ্যাসিস্ট অপশক্তির বিরুদ্ধে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে দ্বিধা করেনি। এখনকার চুনোপুঁটিকেও জামায়াত ভয় করে না, পরোয়া করে না। জামায়াত এক আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না, করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সকল অপশক্তিকে রুখে দেবে। নতুন বাংলাদেশ গড়বেই, ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রানীহাটি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নায়েবে আমীর ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেশুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. আবু বকর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আমীর হাফেজ আব্দুল আলীম।

এছাড়াও সমাবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, সদর উপজেলা ও রানীহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শুরুর আগে বিকেল থেকেই স্থানীয়দের ঢল নামে সভাস্থলে।

এনএইচ