প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বিষয় অতিরঞ্জিত করা যাবে না। আবার সমাজে বিদ্যমান ধারণাকেও অস্বীকার করা যাবে না। যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।’
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে টকশোতে অংশ নেওয়া দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় টকশোতে দলের হয়ে অংশ নেওয়া নেতাদের সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চলার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া সরকার ও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার ও দলের অবস্থান দেশবাসীর সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা বা অতিরঞ্জিত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘অতিরঞ্জিত যেমন করা যাবে না, আবার সমাজের বিদ্যমান ধারণাকেও অস্বীকার করা যাবে না। সমাজের ধারণাকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে বলতে হবে। টকশো বলেন আর টকশোর বাইরে বলেন, যা বলার যৌক্তিকভাবেই বলতে হবে। তথ্যভিত্তিক বলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একা পারব না, আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন। আপনারাই বলছেন, আমার বিষয়ে মানুষের ধারণা ইতিবাচক। আমি একা ইতিবাচক হলে তো হবে না। আমি একা তো পারব না, সমন্বিত প্রচেষ্টা লাগবে। সরকারের চেষ্টাকে তুলে ধরতে হবে যৌক্তিকভাবে।’
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের কাজ ও অবস্থান ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্ব দেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, সরকারের উদ্যোগকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তা হতে হবে বাস্তবসম্মত, যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক। একইসঙ্গে জনমনে থাকা প্রশ্ন, উদ্বেগ বা ধারণাগুলোকে পাশ কাটিয়ে নয়; বরং সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই বক্তব্য দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া আরেক নেতা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এই মিথ্যার পাল্টা জবাব দিতে তথ্য ও উপাত্ত সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল, এমপি আজিজুল বারী হেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ অন্তত শ’খানেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ
