শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের হাত থেকে ফুল নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীরা বরণিত হন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অডিটোরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন এবং নির্দিষ্ট নিবন্ধন কোড দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
অনুষ্ঠানে নবীনদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা বড় বড় মনীষীদের কথাগুলো পড়ি, তাঁদের অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তাঁদের কথার সঙ্গে তাঁদের বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাই না; ফলে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আমাদের বুঝতে হবে, শুধু শারীরিকভাবে বড় হওয়া নয়, গুণ ও নৈতিকতার দিক থেকে বড় হওয়াটাই আসল। কোনো ব্যক্তি মানুষকে যে আদর্শ বা সফলতার পথ দেখাচ্ছেন, তিনি নিজে সেই আদর্শ কতটা অনুসরণ করছেন—সেটিও আমাদের বিবেচনা করা উচিত।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চায়, তার লক্ষ্য স্থির করা। নিজের অধ্যায়নরত বিষয়ে গভীর ধারণা রাখতে হবে, যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন স্বপ্নগুলো নষ্ট না হয়ে যায়। আমরা এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যে প্রজন্ম ভবিষ্যতে এ দেশের সেবায় নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়োজিত রাখবে। মেধাস্বত্বের ভিত্তিতেই একটি দেশ গড়ে উঠবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এ দেশে শিক্ষিত যুবকদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না, যার ফলে তাঁরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে কর্মসংস্থান হিসেবে বিদেশকে বেছে নেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই দলীয়করণ থেকে মুক্ত করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিলেও খুব অল্পসংখ্যকই পড়ার সুযোগ পায়। তাই শুরু থেকেই সবাইকে পড়ালেখায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমরা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখতে চাই।
তিনি আরো যোগ করেন, দেশের ইতিহাসে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এ দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হলো সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। আমরা আশাবাদী, শিবির আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। সমাপনী বক্তব্যে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা একটি কঠিন ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এখানে এসেছো। এখানে ভালো পথ যেমন আছে, তেমনই খারাপ পথও আছে। আশা করছি, তোমরা সঠিক পথটিই বেছে নেবে এবং সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজীর, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মু. মাহমুদুল হাসান, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ।
এস
