তিনি বলেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণ হলেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। যারা নারীদের অধিকারের কথা বলে, নারীর স্বাধীনতার কথা বলে তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে; নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হয়নি, নারী শিশু ঘরে-বাহিরে কোথাও নিরাপদ ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী দ্বারা নারী-শিশু সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। নিজস্ব মতবাদ বা পরিবারতন্ত্র দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয় না। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলাম ব্যতীত আর কোনো ধর্ম নারীর অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয়নি। মানব রচিত আইনে বিগত ৫৪ বছর বাংলাদেশ পরিচালিত হয়েছে। এই আইনে মানুষের কল্যাণ হয়নি, হবে না।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় না বসেই মহিলাদের জন্য ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। নারীদের বিভিন্ন কর্মমূখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী নারীদের জনশক্তিতে রূপান্তরে ভূমিকা রাখছে। নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ, গবাতি পশু বিতরণ ও ব্যবসার জন্য পুঁজি প্রদান সহ নারীদের কল্যাণে ব্যাপক কার্যক্রম জামায়াতে ইসলামীর অব্যাহত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেল নারীদের কল্যাণে এসব কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আইনে নারীদের যথাযথ অধিকার দেওয়া হয়নি। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ হলে নারীর অধিকার নিশ্চিত হবে। ইসলাম বিদ্বেষীরা অপপ্রচার করছে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা ঘরে বন্দী থাকবে, বোরকা পরতে বাধ্য করো হবে; কিন্তু না ইসলাম কাউকে বাধ্য করে, জোর করে ধর্ম পালন করার দায়িত্ব দেয়নি। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.) কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি কেবলমাত্র ধর্ম পালনের উপদেশ দাও, তুমি উপদেশকারী। যার ইচ্ছে সে পালন করবে, যার ইচ্ছে সে পালন করবে না। নিশ্চয়ই সকলকেই আমার দরবারে দাঁড়াতে হবে। তাহলে নবী যদি উপদেশকারী হয় ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে ধর্ম পালনে মানুষকে বাধ্য করবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রও কেবল উপদেশ দিবে, কাউকে বাধ্য করবে না, করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কুরআনের তালিম বন্ধ করে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখতে চায় তারা ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজের ওপর কত ভয়াবহ নির্যাতন চলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীরা নারীদের ওপর হামলা করছে, ধর্ষণ করছে, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করছে অথচ সেই দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কেউ কারো কথা শুনছে না, মানছে না। ক্ষমতায় বসতে পারলে এরা বেপরোয়া হয়ে দেশবাসীকে জিম্মি করবে।
দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নেতৃত্ব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে। ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তাই তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণ তাকে সুযোগ দিলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার ১০ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা শোয়াইবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ