তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’, ‘পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন’, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চতকরণ’, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা’, এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করার জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত ৫ দফা দাবি পূরণ হলে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকার যাত্রাবাড়িতে গণসংযোগ অভিযান পূর্বক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত সময় যাদেরকে নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণকে শোষণের মাধ্যমে জুলুম করেছে। উন্নয়নের নামে দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। তারা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দেওয়ার নামে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তাদের এক দল ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে দুর্নীতিতে টানা ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করেছে। আরেক দল ক্ষমতায় গিয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের হত্যা করেছে, দেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে রূপান্তরিত করতে আধিপত্যবাদের সকল প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করেছে। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেশকে মেরুদন্ডহীন করে দিয়েছে। যারা দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করেছে তারা আবার ক্ষমতায় আসলে দেশকে দেউলিয়া করে হাসিনার মতোই পালিয়ে যাবে।

কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে সুখি-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। জনগণও বিশ্বাস করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই সম্ভব দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। সারাদেশের জনসাধারণের মতো ঢাকা-৫ আসনের জনগণও নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি, ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

পরে মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শহীদ ফারুক সড়ক, সায়দাবাদ, ধলপুর, বৌবাজার, সুতির খালপাড় হয়ে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকার বিভিন্ন সুপার শপ, মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী এবং পথচারীদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পত্রের লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও যাত্রাবাড়ী থানা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাদেক বিল্লাহ, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা আমীর আবুল হোসাইন, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা নায়েবে আমীর বোরহান গাজী এবং থানা সেক্রেটারি মাওলানা মো. শরিয়ত উল্লাহ, যাত্রাবাড়ী উত্তর থানা সেক্রেটারি আহমদ রাসেল, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন সিনহা সহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও জনশক্তি ।

এনএইচ