রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে এক গণমিছিল-পূর্ব পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদির সভাপতিত্বে পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন থানার আমীর, শ্রমিক ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ।

গণমিছিলটি মগবাজার চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিল হয়ে শিল্পাঞ্চল এলাকা দিয়ে নাবিস্কো মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার জনতা অংশগ্রহণ করেন।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিক্রান্ত হলেও শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ ক্ষমতালিপ্সা ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে বৈষম্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষেত্রই এখনও বাজিকারদের দখলে।

তিনি বলেন, রাজধানীর উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে পিষ্ট ও অতিষ্ঠ। ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে নৈরাজ্যের কবলে রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন না। মূলত এখানকার মালিক ও শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি। শ্রমিকরা পরিশ্রম করার পরও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসব সমস্যার সমাধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে—ইনশাআল্লাহ। তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সারা দেশে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জামায়াত একটি আদর্শবাদী, নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক সকল সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এমনকি চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী সফলতা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে প্রমাণ করেছেন—জামায়াতই এ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে সুশাসন উপহার দিতে পারে।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচনে এ এলাকায় দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে এলাকাটিকে সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য একটি সমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য নিশ্চিত করা হবে নিশ্চিন্ত ও আতঙ্কমুক্ত নিরাপদ ব্যবসা পরিবেশ। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

এনএইচ