শেল ট্রিপল ১০ চ্যালেঞ্জ কনসেপ্ট কার নামের গাড়িটি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নুনিটনের হোরিবা মিরা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রদর্শন করা হয়েছে। গাড়িটি এখনই বাজারে আসছে না। এটি মূলত নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা দেখানোর জন্য তৈরি একটি পরীক্ষামূলক মডেল।

গাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ব্যাটারি প্রযুক্তি। এতে বিশেষ ধরনের শীতলকারী তরলে ব্যাটারি ও মোটরের কিছু অংশ ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাটারির তাপমাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এতে নিরাপত্তা বজায় রেখেই খুব দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব হয়।

প্রকল্পের অংশীদার আরএমএল গ্রুপের ডেনিস গোরম্যান বলেন, নতুন এই প্রযুক্তিতে ব্যাটারির প্রতিটি কক্ষে শীতলকারী তরল প্রবাহিত হয়। এতে ব্যাটারিকে বেশি চাপ দিয়েও দ্রুত চার্জ করা যায়।

গাড়িটির ব্যাটারি প্রচলিত অনেক বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় প্রায় অর্ধেক আকারের। তবু একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে পারে। ওজন কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটির উৎপাদন থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণও কমেছে।

প্রযুক্তিগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে যুক্তরাজ্যের হোরিবা মিরার প্রকৌশলীরা কাজ করেছেন। নতুন শীতলকারী তরল বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে কতটা নিরাপদে ব্যবহার করা যায়, সেটিও পরীক্ষা করা হয়েছে।

হোরিবা মিরার প্রকৌশলী বেন গেইল বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক বিষয় যাচাই করতে হয়েছে। তবে এর সম্ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

শেলের প্রতিনিধি টবি রকস্ট্রো বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়িতে এ ধরনের ব্যাটারি ব্যবহারের আশা করছেন তারা।

পরীক্ষামূলক হলেও গাড়িটির ভেতরের নকশা অনেকটাই বাজারে থাকা আধুনিক গাড়ির মতো। এতে রয়েছে বড় পর্দা, পর্যাপ্ত পায়ের জায়গা এবং আধুনিক নানা সুবিধা।

তবে গাড়িটির কিছু অংশ এখনো পরীক্ষামূলক। যেমন- ত্রিমাত্রিক ছাপায় তৈরি পাশের আয়নাগুলো অতিরিক্ত গরমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্মাতাদের আশা, বাণিজ্যিক সংস্করণে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকবে না।

এমএম