বুয়েন্স আয়ার্সে চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ বলেন, ম্যারাডোনার মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও নার্সিসিজমের লক্ষণ ছিল। তার ভাষায়, “তিনি একটি দেশকে নতজানু করতে পারতেন, কিন্তু এক গ্লাস অ্যালকোহলই তাকে দুর্বল করে দিত।”
৩৪ বছর বয়সী এই মনোবিদ ম্যারাডোনার ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ মামলার সাত আসামির একজন। তার বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যারাডোনার চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কারও অবহেলা তার মৃত্যুর কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিয়াজ আদালতে জানান, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি প্রথম ম্যারাডোনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর ২৯ দিন পর, ২৫ নভেম্বর, এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, প্রথম সাক্ষাতের সময় ম্যারাডোনাকে সোফায় বসে মদ্যপান করতে দেখেন, যা তাকে বিচলিত করেছিল।
মনোবিদের দাবি, ম্যারাডোনা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তাকে সম্পূর্ণ অ্যালকোহলমুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনায় রাখা হয়। পাশাপাশি টক্সিকোলজি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে টানা ২৩ দিন তিনি মাদক গ্রহণ করেননি।
এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি, নিউরোসার্জন লিওপোলদো লুকে-ও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যারাডোনার বাসায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল, তবে সেটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হয়নি।
ফুটবল বিশ্বে অনন্য প্রতিভা হিসেবে বিবেচিত দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা এবং নাপোলি-র হয়ে খেলেছেন।
২০২০ সালের নভেম্বরে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের পর ৬০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
এনএইচ