শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা পয়েন্ট, বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার, দিরাই বাজার ও কলেজ রোড এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার থানা পয়েন্টে বিএনপির একটি পক্ষের উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, এ কর্মসূচির বিরোধিতা করে অবস্থান নেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মিছিল ও পাল্টা মিছিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিরাই থানা পয়েন্টে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ‘জুলাই স্মরণ সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। ওই সমাবেশে তিনি ৮ আগস্ট বিএনপির নামে পৃথক সমাবেশ আয়োজনের সমালোচনা করেন। তার দাবি, ৬ আগস্টের কর্মসূচিই ছিল বিএনপির মূল সমাবেশ। এর বাইরে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করলে দলীয় বিভক্তি আরও বাড়তে পারে।
এর মধ্যে দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতার উদ্যোগে শনিবার একই স্থানে পৃথক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আয়োজক পক্ষের নেতাকর্মীরা এটিকে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি হিসেবে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের দাবি, শনিবারের সমাবেশটি দলের অনুমোদিত নয়। এ কারণে তারা কর্মসূচিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিরাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মিছিল ও অবস্থান দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিরাই থানা পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পয়েন্ট, বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার, দিরাই বাজার ও কলেজ রোড এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এক পক্ষ সমাবেশ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এস