তিনি ঢাকা থেকে চাকরির পরীক্ষা শেষে সিলেট ফেরার পথে নিখোঁজ হন। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় শায়েস্তাগঞ্জ জিআরপি ও কামাইছড়া ফাঁড়ি পুলিশ লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্যে লাশের ছবিসহ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন স্থানীয়রা। এর সূত্র ধরে রাজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়।

‎​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজন একটি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে শনিবার রাতে ঢাকার একটি ট্রেনযোগে তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবার চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

‎ রোববার সকাল থেকেই নিখোঁজ রাজনের সন্ধান চেয়ে তার ভাইয়েরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরবর্তীকালে বিকেলের দিকে ফেসবুকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশের ছবি দেখতে পান তারা। ছবি দেখে ভাইয়েরা নিশ্চিত হন যে এটি নিখোঁজ রাজনের লাশ। ফেসবুকের ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত অবস্থায় লাশটি পড়েছিল এবং স্থানীয়রা পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ছবি পোস্ট করে সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

‎​শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনের লাশ উদ্ধার করে বর্তমানে রেলওয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

‎তবে স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় তিনি ছিনতাইকারী বা মলম পার্টির খপ্পরে পড়তে পারেন। ছিনতাইকারীরা সবকিছু লুটে নিয়ে তাকে ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

‎শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার লিটন চন্দ্র দাস লিখিত মেমোর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

‎এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) রাশেদ পারভেজ ছায়িম।

এমএম