মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধভাবে ১০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর জুড়ী প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়ালবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, বিজিবির পাহারায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে তাদের ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছালে শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দিয়ে বিজিবির সদস্যরা চলে যান। পরে তাদের বড়লেখার দিকে নেওয়া হয়।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তাদের বাড়ি নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। বিভিন্ন সময়ে তারা যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিএসএফ তাদের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে বিজিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা তাদের জানানো হয়নি।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)। তাঁদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায়।
স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানতে তিনি ৫২ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে সেটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। তাঁকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তাঁর ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খোর্শেদ আলমের দাবি, পরে মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে তাকেও আটক করা হয়। ভোরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান খান বলেন, সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। সীমান্ত নিরাপত্তায় বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। তবে জুড়ী সীমান্তের অভিযোগ কিংবা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
এস