ঘোষণা অনুযায়ী- আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের যোগদান, পদায়ন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ ও রূপরেখা ঘোষণা না করা হলে আগামী রোববার (২ আগস্ট) থেকে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি করবেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। নতুন এ শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়নের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘কেন্দ্রীয় প্রাইমারি প্যানেল ২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের ফেসবুক পেজে এ সংবাদ সম্মেলন লাইভ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দাবি-দাওয়া ও আগামী দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেন ফারজানা আক্তার ও দেবব্রত রায়। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, দেশের অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিশুরা শিক্ষক পাচ্ছে না। আর আমরা মেধার সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্লাসে যেতে পারছি না। এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না।
তারা আরও বলেন, অবিলম্বে আমাদের বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও পদায়ন নিশ্চিত করা হোক। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। প্রশিক্ষণ গ্রহণ নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা মনে করি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরও বেশি যোগ্য শিক্ষক হয়ে গড়ে উঠতে পারবো। কিন্তু সেটা নিয়ম মেনে হতে হবে। নিয়মে আগে যোগদান, এরপর বিদ্যালয়ে পদায়ন এবং তারপর প্রশিক্ষণ রয়েছে। সেটা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দেবব্রত রায় বলেন, আমরা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা চাই। এ অপেক্ষার অবসান ঘটানো হোক। আমরা বিশেষ সুবিধা চাই না। ন্যায্য অধিকার চাই। শ্রেণিকক্ষে যেতে চাই, শিশুদের পড়াতে চাই। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, ভবিষ্যতের জাতি গড়ার কারিগরি হিসেবে দেখুন। আমরা দেশ গঠনে দায়িত্ব পালন করতে চাই।
ফারজানা আক্তার বলেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গত ১৭১ দিনে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি; মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।
দেবব্রত রায় বলেন, আগামীকালের মধ্যে নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও স্কুলে পদায়ন বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে না এলে আগামী রোববার (২ আগস্ট) থেকে ৬১ জেলার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হবো। আর যদি নোটিশ দেওয়া হয়, তাহলে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে চলে যাবো।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদান করানো হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এমএম