অব্যাহতি দেওয়ার সময় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অধ্যাপক আতাউর তিন বছর মেয়াদে সভাপতি থাকাকালে বিভাগের তহবিল থেকে তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা মোট ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮০ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন তিনি ওই টাকার কোনো হিসাব ও ভাউচার জমা দেননি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিভাগের একাডেমিক কমিটি ও পরিকল্পনা কমিটির সভার আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচার জমা দেওয়ার জন্য তাকে পরপর ৬টি পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচারের কোনোটিই জমা দেননি।

তিনি আরও জানান, সভাপতির দায়িত্ব শেষ করার প্রায় ১০ মাস পার হলেও কোনো হিসাব না পেয়ে বিষয়টি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির ৫৫তম সভা এবং ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির ৩০তম সভায় আলোচনা করে রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ওই বিভাগের যাবতীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৩৫তম সিন্ডিকেট সভার ৪০(২) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার সভাপতির মেয়াদকালে (২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত) আয়-ব্যয়ের সমুদয় হিসাব নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তাকে উর্দু বিভাগের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতির বিষয়ে অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, নকীব (সাবেক উপাচার্য) প্রশাসন ষড়যন্ত্র করে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এর কোনো ভিত্তি নেই। আমার সম্মানহানি ও মানহানি করার জন্য সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্র করে এই কাজ করা হয়েছিল। এটা জামায়াত-শিবিরের একটি ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক আতাউর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে আমি জেনেছি। উনার অব্যাহতির বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। আবার ওনার নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমাদের কোনো অবস্থান নেই।

অব্যাহতি দেওয়ার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধ্যাপক আতাউর রহমান সভাপতি থাকাকালে বিভাগের তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করেন। আমরা তার কাছ থেকে ভাউচার পাইনি। তাই বিভাগের একাডেমিক কমিটি ও পরিকল্পনা কমিটি থেকে তিনটি করে মোট ৬টি চিঠি তাকে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যখন তিনি ভাউচার জমা দেননি, টাকার হিসাব দেননি, তখন আমরা একাডেমিক কমিটি ও পরিকল্পনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলাম।

অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এবং তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এখন তিনি অব্যাহতিপ্রাপ্ত অবস্থাতেই আছেন। তদন্ত কমিটিও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এমএম