আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি)-এর উদ্যোগে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত 'রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম ২০২৫' শীর্ষক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম কথাগুলো বলেন। আইআইইউসি'র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্যা নেটওয়ার্ক অব ইরাসমাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস এর এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. মোঃ আশিকুর রহমান। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি'র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর এবং 'রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম কমিটির কনভেনার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও প্রফেসর সামসুল আলম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিআরপি কমিটির চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফীক, প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আমীরুজ্জামান ও আনোয়ার সিদ্দিক চেধৗুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, গবেষণা শুধু পেশাগত কাজ নয়, সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। গবেষণাকে ল্যাব আর জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়, প্রকৃত জীবন-সমস্যা সমাধানে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বিশুদ্ধ গবেষণার চেয়ে প্রায়োগিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থানযোগ্য গ্র্যাজুয়েট উপহার দেয়ার জ্ঞান সৃষ্টি করার এবং জ্ঞান বিনিময়ের মিশন থাকতে হবে। আইআইইউসি'র উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান হওয়ায় আনন্দিত উল্লেখ করে ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও স্বনামধন্য গবেষক। মৎস্য প্রজনন ও হালদা নদীর উপর তার গবেষণা কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে, যা তরুণ গবেষকদের জন্য প্রেরণার উৎস।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি'র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম বলেন, গবেষণা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, শিক্ষার মান উন্নত করে, বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয় এবং গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি করে, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করে এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। আজ আমরা শুধু কয়েকজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্যকে সম্মান জানাচ্ছি না; বরং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার অগ্রযাত্রাকেও উদযাপন করছি। আপনাদের গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের পক্ষ থেকে আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি'র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো বহুমুখী জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্র। গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। আধুনিক বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও শক্তি নির্ধারিত হয় তার গবেষণার মান এবং শিক্ষার গুণগত মানের উপর। এই বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণা সংস্কৃতিকে আরো অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। তিনি গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, তরুণ গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়নের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্যা নেটওয়ার্ক অব ইরাসমাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস এর এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. মো. আশিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা দক্ষ জনশক্তি রয়েছে তা গুরুত্কপূর্ণ। কজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা উপহার দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা মহত্ব দান করেছে তাও বিবেচ্য বিষয়। তিনি পাওয়ার পয়েন্টে জনশক্তির দক্ষতা ও গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি'র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, গবেষণা কোনো চাকরির পদোন্নতি বা স্বীকৃতি অর্জনের উপায় নয়, বরং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার মাধ্যম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। এখানে শিক্ষকদের প্রধান কাজ হলো গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান উৎপাদন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আজকের বিশ্বে গবেষণা মানেই প্রতিযোগিতা। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের গবেষণার মান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পিছিয়ে থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য গবেষণা ও প্রকাশনায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৩ জন গবেষককে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত ও বাছাইকৃত মোট ছিয়ানব্বইটি গবেষণাপত্রের মধ্যে তেইশটি গবেষণাপত্র দিয়ে শ্রেষ্ঠ হিসাবে পুরস্কৃত হয় ইলেকট্রিকাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগওে সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহিদ হাসান।
এমএম