এতে বলা হয়েছে, গাজায় নিরস্ত্রীকরণের বিস্তারিত রোডম্যাপ ১৪ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক যাচাইকারী সংস্থার অনুমোদন নিয়ে সময় বাড়ানো যাবে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, এই আলোচনা ছিল কঠিন। আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, যা বাস্তবসম্মত এবং সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তাহলে হামাসও সমঝোতার কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। তার ভাষ্য, নিরস্ত্রীকরণ নির্ভর করবে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতির ওপর।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘বোর্ড অব পিস’-এর ভূমিকার প্রশংসা ট্রাম্পের

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে গাজায় নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথ খুলে যাবে, যা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এটি গাজার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে, কারণ গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তর

বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা জানান, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র গাজার প্রশাসনের দায়িত্ব নিতে যাওয়া একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পুলিশের হাতে থাকা অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। এরপর ভারী অস্ত্র ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজায় সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

ট্রাম্প বলেন, এই নিরস্ত্রীকরণ গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। তার দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটবে।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে ১ হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজার আরও এলাকা দখল এবং মানুষ ও পণ্য চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা

ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে। তাদের জায়গায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব নেবে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজা এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে যাবে, যারা প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবা করবে।

কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা

গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের নেতারা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে।

হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনা ইতিবাচক এবং অগ্রগতি হচ্ছে।

মিসরের গণমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, শিগগিরই কায়রোতে নতুন দফার বৈঠক হবে। এতে মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈঠকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হবে।

তবে গাজার আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। প্রস্তাবের কিছু ভাষা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এনএইচ