বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিপকে এই দাবি জানান।
অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ যে বলপ্রয়োগ করেছে, তার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
দিপকে বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক ছিল। দেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এরপরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নয়। দেশের সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। তার অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ছিল গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং একক কর্তৃত্বের প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু সেই দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি বলে তার অভিযোগ।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকেও সমালোচনার মুখে ফেলেন দিপকে। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এমন একজনকে আনা হয়েছে, যার কিছু বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের মানুষের কাছে কী ধরনের বার্তা যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যোগগুরু বাবা রামদেবের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন দিপকে। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধী ও ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এটিকে সংস্কৃতির অবমাননা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্য বিষয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে রামদেবের নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিপকে বলেন, যদি সরকার সত্যিই মনে করে তাদের সংগঠন বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বা বিদেশি অর্থ পাচ্ছে, তাহলে সেটি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, এমন অভিযোগ সত্য হলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন চলে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন করে পদত্যাগের দাবি সামনে আসায় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে দিপকের আনা অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত তার বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এনএইচ