বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০’। বেন গভিরের নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থি দল ওতজমা ইয়েহুদিতের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যুও এটি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ করেছেন বেন গভির। এতে প্রথম বছরে গাজা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এ সংখ্যা ১১ লাখ ১০ হাজারে এবং সাত বছরে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়াকে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিনের হামলা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং খাদ্য-পানিসহ মৌলিক প্রয়োজনীয়তার সংকটের মধ্যে মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হলে তাকে প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া বলা যায় না।
বেন গভিরের প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের তুরস্ক, ইথিওপিয়া, কঙ্গোসহ কয়েকটি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাবও দেওয়া হয়েছে। প্রথম বছরেই ব্যয় হতে পারে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সাত বছর মেয়াদি পুরো পরিকল্পনায় ব্যয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ বেন গভির। ভবিষ্যতে কোনো জোট সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকে শর্ত হিসেবে রাখতে চান তিনি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জোরপূর্বক স্থানান্তর তদারকিতে একজন পৃথক মন্ত্রী নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন বেন গভির। তার অধীনে একজন মহাপরিচালক, পৃথক বাজেট ও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাতে বিশেষ দল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে মন্তব্য করেছেন। বুধবার তিনি দাবি করেন, অভিবাসন ছাড়া গাজার জন্য কোনো বাস্তব সমাধান নেই।
কাৎজের ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের গ্রহণে আগ্রহী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চাইছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনাটি বাতিল করেননি, বরং স্থগিত রেখেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, আরব দেশগুলোর চাপের কারণেই পরিকল্পনাটি এগোয়নি।
এর আগে জুনের শেষ দিকে ইসরাইল এই উদ্যোগের নাম ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ থেকে পরিবর্তন করে ‘ফ্রিডম অব মুভমেন্ট প্ল্যান’ বা ‘চলাচলের স্বাধীনতা পরিকল্পনা’ রাখে। তবে পরিকল্পনায় গাজা ছাড়ার পর ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকার বা সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তার উল্লেখ নেই।
গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপত্যকার বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্য ও পানির সংকটও সেখানে মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
এস