সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে জবাবও দেওয়া হবে।
তবে আলোচনার সময় বিরোধীদের সংসদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন রিজিজু। তাঁর ভাষায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীরা যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন, যাতে সরকারের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব না হয়।
সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এলো, যখন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
‘দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত এক কলামে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে সংসদেও কোনো বক্তব্য দেননি।
তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এমনকি নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন রাহুল। এসব ঘটনায় কার অনুমোদন ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। গত ২০ জুলাই রাজধানীর যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে বিবৃতি দাবি করে আসছে বিরোধীরা।
এর আগে গত সপ্তাহে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অভিযানের বিষয়ে অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন।
জবাবে কিরেন রিজিজু বলেন, কোন মন্ত্রী কখন সংসদে বক্তব্য দেবেন, তা বিরোধীরা নির্ধারণ করতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকছেন না—বিরোধীদের এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। রিজিজুর দাবি, অমিত শাহ নিয়মিত সংসদ চত্বরে আসেন এবং সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে থাকেন।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদে স্লোগান দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে রিজিজু বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে অনেক বিরোধী সদস্য তা শোনেন না। সংসদের কার্যক্রমে বাধা না দিয়ে সরকারের বক্তব্য শোনার জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান ।
শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সরকার সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সম্মতি দেওয়ায় বিষয়টি এখন ভারতের সংসদে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এস