রোববার পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ধরে, তাতে কাদা মাখিয়ে দেয় এবং জুতো ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারে বলে অভিযোগ। পুলিশরা বিক্ষোভকারীদের ঠেলে সরানোর চেষ্টা করলে এসময় বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

পরে মমতা সাংবাদিকদের বলেন যে ইট ও পাথরে আঘাত করলে তিনি মারাও যেতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘বাইরের সমাজবিরোধীরা পুলিশের সামনেই আমার গাড়িতে পাথর ছুঁড়েছে। আমার গাড়ির জানালাগুলো বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমি মারাও যেতে পারতাম। আমি এর আগে কখনও এমন আক্রমণের শিকার হইনি। পুলিশ আমাদের রক্ষা করার জন্য কিছুই করেনি। তারা শুধু বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।

মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভা সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে সবকিছু পরিচালনা করছেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য ঘটনাটির নিন্দা করে বলেন, বিজেপি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনায় গিয়েছিলেন সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। কেওটকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর গত শুক্রবার আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। পরে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর, মমতার ভাগ্নে ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় আক্রমণের শিকার হওয়ার কয়েক মাস পরেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।

পুলিশি হেফাজতে মৃত সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন মমতা

কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তার স্বামীকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘যখন এফআইআর-এ নাম না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র একজন ব্যক্তিকে হেফাজতে নিতে পারে - এবং তিনি জীবিত ফিরে আসেন না- তখন প্রশ্নটি আর কেবল আইনশৃঙ্খলার থাকে না। এটি আইনের শাসনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তৃণমূল নেতা বলেন।

তবে কেওটের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এস