রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে গঙ্গার পানি ব্যবহার করে পানি ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণের বিষয়টি উল্লেখ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।
পিটিআইকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো, নবায়ন করা কোনো চুক্তিতে যেন রাজ্যের ন্যায্য প্রয়োজনীয়তাগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পানির পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত করাকে রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ, হুগলি নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নৌপথে নাব্যতা সংকট তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও ভাটি- দুই অংশের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিবছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পলি জমার প্রভাব শুধু নদী ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই; নৌচলাচল ও বন্দরও এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
তিনি জানান, অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ওই এলাকায় বারবার বন্যা হচ্ছে। একই কারণে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টে জাহাজ চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া এবং আর্সেনিক দূষণের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছে পশ্চিমবঙ্গ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজ্যের জন্য গঙ্গার পানি দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শোধনের পর পানীয় জল সরবরাহ, সেচ এবং নির্দিষ্ট শিল্পকারখানার প্রয়োজন মেটাতে গঙ্গার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতের যেকোনো পানিবণ্টন চুক্তিতে বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি পরিবেশগত উদ্বেগগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।’
বর্তমানে ভারতে গঙ্গার পানি সেচকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শোধনের মাধ্যমে এই পানি পানীয় হিসেবেও সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি শিল্প খাতেও পানির একটি অংশ ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে।
এ কারণে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি হলে পরিবেশগত ঝুঁকি, নদীভাঙন এবং ভাটির অঞ্চলে পানির পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
এনএইচ