তিনি বলেন, তারা ছিল ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট, কিন্তু তাদের মধ্যে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল। অথচ হাসিনার মনে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল মূল এজেন্ডা। তিনি এই এজেন্ডা থেকে কখনো সরে আসেননি। তাই তিনি ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।
বুধবার গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্রপ্রদর্শনী শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে। সেভাবেই এই দেশে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল—আওয়ামী ফ্যাসিবাদ। তারা সবসময় মানুষকে প্রলোভনমূলক কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য জনগণের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা কাদের হত্যা করেছে? প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষ্পাপ ছাত্রছাত্রী এবং ভাই-বোনদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে কোলের শিশুও নিহত হয়েছে, মানুষকে ছিন্নভিন্ন করে হত্যা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী এবং সাংবাদিকও নিহত হয়েছেন। ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও এই আন্দোলনে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ। জনগণের মধ্যে সুপ্ত থাকা এই শক্তির কথা হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি। আর সে কারণেই তিনি বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করেছেন, ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি। তবু নির্লজ্জের মতো তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।
ভারতের দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’-এর একটি অনুষ্ঠানে হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, হাসিনা পলাতক, ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জন্য ভারত সরকারের এত মায়া, এত কান্না এবং এত কুম্ভীরাশ্রু যে তাঁকে ভিডিও বার্তা না হলেও অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী নীতির (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) প্রকাশ। ফ্যাসিস্টের প্রতি এই সমর্থন ভারত মনে রেখেছে বলেই আজ হাসিনার মতো একজন পলাতক এবং বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, ছাত্র ও শ্রমিকের রক্তপিপাসু বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সেখানে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারত এমন আচরণ করছে যেন অন্য দেশের কোনো পলাতক ও দাগি আসামি যদি ‘ভারতপ্রেমিক’ হয়, তবে তার সাত খুন মাফ। ভারতের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।
গণতন্ত্রের লড়াই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লড়াই এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক প্রত্যয়, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে আবারও শামিল হতে তারা দ্বিধা করবেন না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এস