নতুন দায়িত্ব পেতে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, হুমায়ুন কবির এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। সাচিং প্রু জেরী পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আর বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার কথা রয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পেতে যাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এরই মধ্যে বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের মধ্যে বিশেষ আলোচনায় রয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তবে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পরিবর্তন হতে পারে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
মিল্লাতের পদোন্নতি
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনটি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। একই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানমের দায়িত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ পরিবর্তনের ফলে মন্ত্রণালয়টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন সমন্বয় তৈরি হবে। বিমান যোগাযোগ, পর্যটন অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের সামনে থাকা বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্ব কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
ছয় নতুন মুখ, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং সমবায় খাতের উন্নয়ন এ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাওয়া ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের সামনে থাকবে গণমাধ্যম, তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের জনসংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাচিং প্রু জেরীর দায়িত্ব গ্রহণ পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসন, উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবির দায়িত্ব নিলে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সামলাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সামনে থাকবে নানা চ্যালেঞ্জ।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের দায়িত্বও হবে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় সম্প্রীতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি সম্পৃক্ত।
রাষ্ট্রপতির শপথের পর মন্ত্রিসভার শপথ
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পর একই দরবার হলে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
একসঙ্গে ছয়জন নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তনের ফলে সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে কার দায়িত্ব পরিবর্তন হচ্ছে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির শপথ ও পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপনের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
শপথের পর নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে। এখন নজর বঙ্গভবনের দরবার হলের দিকে; রাষ্ট্রপতির শপথের পরই স্পষ্ট হবে মন্ত্রিসভার নতুন পূর্ণাঙ্গ চিত্র।এমএম